মার্কিন ডলারের বিনিময় হার কিছুটা শক্তিশালী হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম কমেছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে চলমান বাণিজ্য আলোচনার দ্বিতীয় দিনের অগ্রগতি নিয়ে বিনিয়োগকারীরা অপেক্ষায় রয়েছেন। এ আলোচনা বিশ্ববাজারে প্রভাব ফেলতে পারে বলে ব্যবসায়ীরা স্পষ্ট তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত বড় সিদ্ধান্ত এড়িয়ে চলছেন। খবর রয়টার্স।
স্পট মার্কেটে গতকাল সকালে স্বর্ণের দাম আউন্সপ্রতি দশমিক ৬ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ৩ হাজার ৩০৭ ডলার ৭২ সেন্টে। একই সময় যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার মার্কেটে স্বর্ণের দাম দশমিক ৮ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ৩ হাজার ৩২৭ ডলার ৫০ সেন্টে।
ছয়টি প্রধান মুদ্রা (ইউরো, জাপানি ইয়েন, ব্রিটিশ পাউন্ড, কানাডিয়ান ডলার, সুইডিশ ক্রোনা ও সুইস ফ্রাঁ) নিয়ে গঠিত মুদ্রাবাজার সূচকের বিপরীতে গতকাল ডলারের বিনিময় হার দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে।
বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতির মধ্যে চলমান বাণিজ্যযুদ্ধ নিরসনে সোমবার লন্ডনে দুই দেশের মধ্যে নতুন দফা আলোচনা শুরু হয়েছে। এমন অবস্থায় বিনিয়োগকারীরা বেশ সতর্ক অবস্থানে থাকায় স্বর্ণ কেনাবেচায় খুব বেশি পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না।
কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার এ বিষয়ে বলেন, ‘বিশ্বের দুই পরাশক্তির মধ্যে আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়া পর্যন্ত স্বর্ণ বাজারে সতর্কতা বজায় থাকবে।’
বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দুই দেশ চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপের মধ্য দিয়ে শুরু হয় বাণিজ্য যুদ্ধ। এ পরিস্থিতি বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে হুমকির মুখে ফেলেছে বলে মন্তব্য করেন বাজার বিশ্লেষকরা।
যদিও গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন একে অন্যের ওপর নতুন শুল্ক আরোপে অস্থায়ী বিরতি দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এমন পদক্ষেপ আর্থিক বাজারে কিছুটা স্বস্তি নিয়ে আসে। তবে চীনের সাম্প্রতিক তথ্যানুযায়ী, মার্কিন শুল্কের প্রভাবের কারণে মে মাসে চীনের রফতানি বৃদ্ধি তিন মাসের মধ্যে সর্বনিম্নে নেমে এসেছে। পাশাপাশি কারখানার উৎপাদন মূল্যও গত দুই বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পতন দেখা গেছে।
সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার সময় স্বর্ণের প্রতি আগ্রহ বেড়ে যায়। ফলে বাজার অস্থিতিশীল থাকলে স্বর্ণের বিনিয়োগ ঊর্ধ্বমুখী থাকে। কারণ অন্যান্য সম্পদের তুলনায় মূল্যবান এ ধাতুতে বিনিয়োগে তুলনামূলক ঝুঁকি কম।
স্পট মার্কেটে গতকাল অন্যান্য ধাতুর মধ্যে রুপার দাম দশমিক ৫ শতাংশ কমে আউন্সপ্রতি ৩৬ ডলার ৫২ সেন্টে নেমে এসেছে। প্লাটিনামের দাম ১ হাজার ২১৯ ডলার ৬৫ সেন্টে স্থিতিশীল রয়েছে আর প্যালাডিয়ামের দাম দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৭৮ ডলার ৯৪ সেন্টে পৌঁছেছে।